নোয়াখালীর চাটখিলের ২নং রামনারায়নপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী ভুট্রু ও তার সহযোগী সন্ত্রাসী কর্তৃক ঐ ইউনিয়নের এক নারীর শ্লীলতাহানি ও মারধর এবং বসত ঘর নির্মাণ বন্ধ করার ঘটনায় ভুক্তভোগী ঐ নারী থানায় অভিযোগ দায়ের করলেও ৬দিনেও পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়নি বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ঐ নারী। শনিবার (১১ জুন) বিকেলে ঐ নারী তার বাড়িতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, তার বসত ঘর নির্মাণ কাজ বন্ধ করে টিন খুলে নেওয়ার সময় লিয়াকত আলী ভুট্রুর টিনে হাতের আঙ্গুল কাটা যায়। অথচ লিয়াকত আলী নিজের উপর ঐ নারী হামলা করছে জানিয়ে মামলা করার উল্টো ভয়ভীতি দিয়ে যাচ্ছে।
উত্তর রামনারায়নপুর নেয়াজ আলী ব্যাপারী বাড়ির আবুল কাশেমের স্ত্রী ভুক্তভোগী তানিয়া আক্তার সাংবাদিক সম্মেলনে সাংবাদিকদের আরো জানান, তার পরিবার শতাব্দীকাল থেকে জরার্জীণ একটি বসত ঘরে বসবাস করে আসছেন। বর্তমানে ঘরটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় তিনি ঐ ঘর সংস্কার করে সেমি পাকা বসত ঘর নির্মান করতে যান। বসত ঘর নির্মাণ করতে গেলে গত বুধবার (১জুন) ঐ ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ বাহার কয়েকজন চৌকিদার পাঠিয়ে কাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেয়। ফলে প্রতিপক্ষ লিয়াকত আলী ভুট্রূ ও তার ভাই শওকত আলী এবং তাদের সহযোগী মো. সুমন বসত ঘর নির্মানে বাধা দিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয় এবং নির্মাণ সামগ্রী লুট করে নিয়ে তার উপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত ও শ্লীলতাহানি করে। হামলায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রেখে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। পরে তিনি ৬জুন (সোমবার) চাটখিল থানায় অভিযোগ দায়েরের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পেয়েও আসামীদের বিরুদ্বে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টো আসামীদের পক্ষে পুলিশ অবস্থান নিয়ে তাকে সালিশ বৈঠক করতে পরামর্শ দেন। এতে উভয় পক্ষকে ৫জন করে ১০জন সালিশ নিয়ে বসতে বলেন। একজন সালিশ নিতে হলে প্রত্যেকে ৩-৫হাজার টাকা করে দিতে হয় ফলে তার পক্ষ এতো টাকা দিয়ে সালিশ নিয়োগ করা পক্ষ সম্ভব নয়।
তিনি আরো বলেন, পুলিশ আইনগত সহয়তা তাকে ও তার পরিবারকে না করায় লিয়াকত আলী ভুট্রু আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে তাকে ও তার পরিবারকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করতে। তাই তিনি তার অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নিতে জেলা পুলিশ সুপার সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আন্তরিক সহযোগিতা চেয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে তার পরিবারের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
এই ব্যাপারে চাটখিল থানার ওসি (তদন্ত) হুমায়ন কবিরের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ঘটনার সূত্র ভূমি সংক্রান্ত। তাই উভয় পক্ষকে সালিশ বৈঠকে বসতে বলা হয়েছে। ঐ নারীর উপর হামলা ও শ্লীলতাহানি ফৌজদারী অপরাধ কিনা জানতে চাইলে, তিনি ফৌজদারী অপরাধ স্বীকর করলেও আসামীদের বিরুদ্বে আইনগত ব্যবস্থা কেন নেওয়া হয়নি এই বিষয়ে কোন স্বদুত্তর দিতে পারেননি।
Все сезон и серии